প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 20, 2026 ইং
দুইজন শিশু বাচ্চা মহাদেবপুর বাজারে পাওয়া গেছে। বাচ্চাদের বয়স ১২ কি ১৩ হবে।

মহাদেবপুর থানা থানা এলাকার নওদাপাড়া বাজার থেকে
প্রতিনিধি
মিঠু
আমাকে (পুলিশ সুপারকে) ফোন করে জানালেন দুইজন শিশু বাচ্চা মহাদেবপুর বাজারে পাওয়া গেছে। বাচ্চাদের বয়স ১২ কি ১৩ হবে।
বাচ্চারা তাকে জানিয়েছে তাদেরকে পত্নীতলা থেকে কে-বা কাহারা মুখ বেঁধে নিয়ে এসেছে।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমি সিরিয়াস হলাম, আবার বিষয়টা যাচাই করার জন্য মিঠু সাহেবকে ফোন দিলাম।
দ্বিতীয়বার ফোনের নিশ্চিত হয়ে আমি দ্রুত বাচ্চাদেরকে নওদাপাড়া ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললাম।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক অফিসার ইনচার্জ মহদেবপুর থানা কে জানিয়ে পুলিশ ভ্যান পাঠিয়ে তাদেরকে মহাদেবপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
অতঃপরতাদেরকে ভালোবেসে এবং আদর করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তারা জানায় তাদেরকে কেউ জোরপূর্বক এখানে নিয়ে আসেনি।
বাচ্চাদের একজনের নাম আরাফাত (১২/১৩)অপর জনের নাম রিয়াদ (১২/১৩) উভয়ের বাসা নজিপুর কলোনি, পত্নীতলা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত ও তাদের অভিভাবকদের সংবাদ দেওয়া হয়। অতঃপর আরাফাত এবং রিয়াদ পুলিশকে তারা জানায় যে "তাদের বাসার আম্মুরা পড়াশোনার জন্য তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণ চাপ দেয়, প্রায় তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং মারধর করে। এজন্য বাড়ির লোকজনকে এবং তাদের আব্বু আম্মুকে ভয় দেখানোর জন্য দুই বন্ধু বিকেল বেলা কোচিং এর নাম করে পরিকল্পনা করে কোচিংয়ে না গিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রথমত তারা বাসে দুইজন নওগাঁ আসে অতঃপর তারা নওদাপাড়া এলাকায় যায়।" গভীর রাতে দুইজন শিশু বাচ্চাদের ঘোরাঘুরি দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। অতঃপর সাংবাদিক মিঠু পুলিশ সুপার নওগাঁকে অবহিত করেন।
সংবাদ পাওয়া মাত্র খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশুদের অভিভাবক তাদের মায়েরা মহাদেবপুর থানায় চলে আসেন। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর রাত্রি দ্বিপ্রহরে বাচ্চাদেরকে কাছে পেয়ে তারা আবেগে আপ্লুত হন। তারা তাদের বাচ্চাদেরকে সুস্থ ভাবে তাদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ায় তারা জেলা পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান। পুলিশ তো তাদেরকে বাচ্চাদেরকে মোটিভেশনের মাধ্যমে ভালোবেসে পড়াশোনা করানোর জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানান। হ্যাঁ আসেন।
পৃথিবী পাল্টে গেছে, সময়ের সাথে সাথে পড়াশোনা ধরন এবং কৌশল সবই পরিবর্তন হয়েছে । পরিবর্তিত এই সময়ে বাচ্চাদের সাথে পিতা-মাতা বিশেষ করে মায়েদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। অনেক সময় পিতা মাতার এই কঠোর আচরণের কারণে বাচ্চারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং বিভিন্ন অপরাধের শিকার হয়। অনেক বাচ্চারা, বাবা মায়ের অতিরিক্ত চাপের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় এবং দুষ্টু মানুষের সাথে সাথে মিশে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। গতকাল একটা মামলা নেওয়া হয়েছে সদর থানায়, অষ্টম শ্রেণীতে পড়া শিশু বাচ্চারা পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে যাচ্ছে, ভিকটিম আসামি সবাই শিশু । আপনার বাচ্চাকে আপনি সময় দিন।
সুতরাং বাচ্চাদের সাথে পিতা মাতারদের জেনারেশন গ্যাপ রয়েছে, এই গ্যাপটা আমাদের ফিলাপ করতে হবে। পূর্বের কৌশলে এখন বাচ্চাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হবে। আমরা যেন পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে অ্যাডজাষ্ট করতো এবং সময়ের সাথে বাচ্চাদেরকে নৈতিক, সামাজিক ভাবে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি।
তাহলে ভবিষ্যতে অনেক অপরাধ কমে যাবে, আমরা সবাই আরো ভালো থাকবো।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা